ভারতের বনাঞ্চল – রেলওয়ে পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ জিকে ক্যাপসুল
১. এক নজরে ভারতের বন সম্পদ
- মোট ভৌগোলিক এলাকা: ৩,২৮৭,২৬৩ বর্গকিমি
- নথিভুক্ত বন এলাকা (আরএফএ): ৭,৬৭,৪১৯ বর্গকিমি (২৩.৩৪ %)
- বন ও বৃক্ষ আচ্ছাদন (আইএসএফআর ২০২১): ৮,০৯,৫৩৭ বর্গকিমি (২৪.৬২ %)
- বন আচ্ছাদন: ৭,১৩,৭৮৯ বর্গকিমি (২১.৭১ %)
- বৃক্ষ আচ্ছাদন: ৯৫,৭৪৮ বর্গকিমি (২.৯১ %)
- কার্বন স্টক: ৭,২০৪ মিলিয়ন টন (২০২১)
- বর্ধনশীল স্টক: ৫,৯১৪ মিলিয়ন ঘনমিটার
২. বনের শ্রেণিবিভাগ
ক. আইনি শ্রেণিবিভাগ (চ্যাম্পিয়ন ও সেথ ১৯৬৮)
| শ্রেণী | এলাকা (বর্গকিমি) | আরএফএ-এর % |
|---|
| সংরক্ষিত | ৪,৩৪,৮৫৩ | ৫৬.৬ |
| সুরক্ষিত | ২,১৮,২৭১ | ২৮.৪ |
| অশ্রেণীবদ্ধ | ১,১৪,২৯৫ | ১৪.৯ |
খ. ঘনত্ব শ্রেণী (আইএসএফআর ২০২১)
| ঘনত্ব | এলাকা (বর্গকিমি) | বন আচ্ছাদনের % |
|---|
| অত্যন্ত ঘন (≥৭০ %) | ৯৯,৭৭৯ | ১৪.০ |
| মাঝারি ঘন (৪০-৭০ %) | ৩,০৬,৮৯০ | ৪৩.০ |
| খোলা (১০-৪০ %) | ৩,০৭,১২০ | ৪৩.০ |
৩. বনের প্রকারভেদ (চ্যাম্পিয়ন ও সেথ সংশোধিত ২০১১)
| গ্রুপ | এলাকা (বর্গকিমি) | উদাহরণ রাজ্য |
|---|
| ক্রান্তীয় আর্দ্র পর্ণমোচী | ১,৩৫,৮৯০ | মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ওড়িশা |
| ক্রান্তীয় শুষ্ক পর্ণমোচী | ১,৮৬,৬২০ | ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র |
| ক্রান্তীয় কাঁটাঝোপ | ১৬,৫৪০ | রাজস্থান, গুজরাট |
| উপক্রান্তীয় পাইন | ৪২,১৫০ | হিমাচল, উত্তরাখণ্ড |
| পার্বত্য আর্দ্র নাতিশীতোষ্ণ | ২৩,০০০ | নীলগিরি, উত্তর-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চল |
| আলপাইন | ৪,৩৫০ | লাদাখ, সিকিম |
৪. রাজ্য অনুযায়ী শীর্ষ বন আচ্ছাদন (২০২১)
| ক্রম | রাজ্য | এলাকা (বর্গকিমি) | রাজ্যের ভৌ. এলাকার % |
|---|
| ১ | মধ্যপ্রদেশ | ৭৭,৪৯৩ | ২৫.১৪ |
| ২ | অরুণাচল প্রদেশ | ৬৬,৯৬৪ | ৭৯.৯৬ |
| ৩ | ছত্তিশগড় | ৫৫,৫৮৬ | ৪১.১৮ |
| ৪ | ওড়িশা | ৫২,১৫৬ | ৩৩.৫০ |
| ৫ | মহারাষ্ট্র | ৫০,৭৭৮ | ১৬.৫০ |
৫. গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ঘটনা
- ১৮৫৪ – প্রথম বন সনদ (লর্ড ডালহৌসি)
- ১৮৬৪ – ব্র্যান্ডিস প্রথম বন-ইনস্পেক্টর জেনারেল নিযুক্ত
- ১৮৬৫ – ভারতীয় বন আইন (১৮৭৮ সালে বাতিল)
- ১৮৭৮ – ভারতীয় বন আইন – সংরক্ষিত/সুরক্ষিত/গ্রাম্য বনে শ্রেণিবিভাগ
- ১৯২৭ – সংশোধিত ভারতীয় বন আইন (এখনও বলবৎ)
- ১৯৩৬ – হেইলি জাতীয় উদ্যান (বর্তমান করবেট) – ভারতের প্রথম এনপি
- ১৯৫২ – জাতীয় বন নীতি (লক্ষ্য ৩৩ %)
- ১৯৮০ – বন (সংরক্ষণ) আইন
- ১৯৮৮ – নতুন বন নীতি (জনগণের অংশগ্রহণ)
- ২০০২ – যৌথ বন ব্যবস্থাপনা (জেএফএম) দেশব্যাপী
- ২০০৬ – বন অধিকার আইন (এফআরএ) – উপজাতি অধিকার স্বীকৃতি
- ২০১৯ – আইএসএফআর ২০১৯ প্রকাশ – বাঁশ এলাকা ৪৯ % বৃদ্ধি
- ২০২১ – আইএসএফআর ২০২১ প্রকাশ – ১৭তম দ্বিবার্ষিক মূল্যায়ন
৬. সুরক্ষিত এলাকা নেটওয়ার্ক (২০২৩)
| বিভাগ | সংখ্যা | এলাকা (বর্গকিমি) |
|---|
| জাতীয় উদ্যান | ১০৬ | ৪৪,৪০৩ |
| বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য | ৫৬৭ | ১,২২,৫৬৪ |
| সংরক্ষণ সংরক্ষিত | ১০১ | ৪,৩৩০ |
| সম্প্রদায় সংরক্ষিত | ২১৪ | ১,৫৬৬ |
| জীবমণ্ডল সংরক্ষিত | ১২টি বিজ্ঞাপিত, ১৮টি এমএবি তালিকাভুক্ত | ৫৯,০০০+ |
৭. ইউনেস্কো মানব ও জীবমণ্ডল (এমএবি) সংরক্ষিত এলাকা (১২টি)
১. নীলগিরি (২০০০) – ভারতের প্রথম
২. মান্নার উপসাগর
৩. সুন্দরবন
৪. নন্দাদেবী
৫. পচমড়ি
৬. সিমলিপাল
৭. অচনকমর-অমরকন্টক
৮. গ্রেট নিকোবর
৯. আগস্ত্যমালাই
১০. কাঞ্চনজঙ্ঘা
১১. দিহাং-দিবাং
১২. মানস
৮. প্রধান প্রজাতি ও বন সংযোগ
- চন্দন – কর্ণাটক (সর্বোচ্চ ৩,৮০০ টন/বছর)
- রেড স্যান্ডার্স – সেশাচলম পাহাড় (অন্ধ্রপ্রদেশ) – সাইটেস পরিশিষ্ট-২
- দেবদারু – পশ্চিম হিমালয় – হিমাচলের রাজ্য বৃক্ষ
- শাল – মধ্য ভারত – অগ্নি-প্রতিরোধী কাঠ
- রোজউড – পশ্চিমঘাট – আইটিসি সীমিত রপ্তানি
৯. এক লাইনের দ্রুত সংশোধনী তথ্য
- বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ: সুন্দরবন (৪,২৬৩ বর্গকিমি বন আচ্ছাদন)
- সর্বোচ্চ বন %: মিজোরাম (৮৪.৫৩ %)
- একমাত্র ভাসমান এনপি: কেইবুল লামজাও (মণিপুর) – সংগাই হরিণ
- সর্বোচ্চ কার্বন সঞ্চয়কারী বৃক্ষ: শাল (শোরিয়া রোবাস্টা)
- ভারতের প্রথম সবুজ রেল করিডোর: রামেশ্বরম-মানামাদুরাই (২০১৭)
- বন জরিপ অধিদপ্তর সদর দপ্তর: দেরাদুন (প্রতিষ্ঠা ১৯৮১)
- আরইডিডি+ – বননিধন ও বন অবক্ষয় থেকে নির্গমন হ্রাস (ইউএনএফসিসিসি)
- ক্যাম্পা – ক্ষতিপূরণ বনায়ন তহবিল ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ (২০১৬)
- “গো গ্রিন” উদ্যোগ – ভারতীয় রেল – ১ কোটি চারা (২০২০-২১)
দ্রুত তথ্যসূত্র টেবিল
টেবিল-১: বন আচ্ছাদন % > ৭৫ % (ছোট রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল)
| রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল | % |
|---|
| মিজোরাম | ৮৪.৫৩ |
| অরুণাচল প্রদেশ | ৭৯.৯৬ |
| মণিপুর | ৭৫.৪৬ |
| মেঘালয় | ৭৫.০৮ |
টেবিল-২: এলাকা অনুযায়ী শীর্ষ ৫ এনপি
| জাতীয় উদ্যান | রাজ্য | এলাকা (বর্গকিমি) |
|---|
| হেমিস | জম্মু ও কাশ্মীর (লাদাখ) | ৪,৪০০ |
| মরুভূমি | রাজস্থান | ৩,১৬২ |
| গঙ্গোত্রী | উত্তরাখণ্ড | ২,৩৯০ |
| নামদাফা | অরুণাচল প্রদেশ | ১,৮০৮ |
| কাঞ্চনজঙ্ঘা | সিকিম | ১,৭৮৪ |
টেবিল-৩: গুরুত্বপূর্ণ উপজাতি বন অধিকার
| আইন | বিধান |
|---|
| এফআরএ ২০০৬ | গ্রাম সভা বন রক্ষা ও ব্যবস্থাপনা করতে পারে – ২০২৩ পর্যন্ত ৪.২ লক্ষ হেক্টর এফসিএ ১৯৮০-এর অধীনে ডাইভার্ট করা হয়েছে |
রেলওয়ে পরীক্ষার জন্য ১৫+ এমসিকিউ
১. আইএসএফআর ২০২১ অনুযায়ী কোন রাজ্যের বন আচ্ছাদনের আওতায় সবচেয়ে বেশি এলাকা রয়েছে?
উত্তর: **মধ্যপ্রদেশ**২. ভারতীয় বন আইন যা সংরক্ষিত, সুরক্ষিত ও গ্রাম্য বনের বর্তমান শ্রেণিবিভাগ চালু করেছিল, কোন সালে পাস হয়?
উত্তর: **১৮৭৮**৩. ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান কোন রাজ্যে অবস্থিত?
উত্তর: **উত্তরাখণ্ড (পূর্বতন ইউপি) – করবেট এনপি**৪. ইউনেস্কো এমএবি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভারতের প্রথম জীবমণ্ডল সংরক্ষিত এলাকা কোনটি?
উত্তর: **নীলগিরি বিআর (২০০০)**৫. বন জরিপ অধিদপ্তর (এফএসআই) আইএসএফআর প্রতিবেদন কত বছর অন্তর প্রকাশ করে?
উত্তর: **২ বছর (দ্বিবার্ষিক)**৬. একটি বনকে "অত্যন্ত ঘন" হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য ন্যূনতম ক্যানোপি ঘনত্ব কত প্রয়োজন?
উত্তর: **≥৭০ %**৭. মধ্য ভারতীয় বনে অগ্নি-প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যের সাথে কোন বৃক্ষ প্রজাতি যুক্ত?
উত্তর: **শাল (শোরিয়া রোবাস্টা)**৮. ক্ষতিপূরণ বনায়ন তহবিল (ক্যাম্পা) আইন কবে বলবৎ হয়?
উত্তর: **২০১৬**৯. কোন রাজ্যের ভৌগোলিক এলাকার সর্বোচ্চ শতাংশ বন আচ্ছাদনের আওতায় রয়েছে?
উত্তর: **মিজোরাম (৮৪.৫৩ %)**১০. বিশ্বের একমাত্র ভাসমান জাতীয় উদ্যান, কেইবুল লামজাও, কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: **মণিপুর (লোকটাক হ্রদ)**১১. ভারতের প্রথম বন-ইনস্পেক্টর জেনারেল হিসাবে কে নিযুক্ত হন?
উত্তর: **ডায়েট্রিশ ব্র্যান্ডিস (১৮৬৪)**১২. জাতীয় বন নীতি ১৯৮৮-এর সমতল ভূমির লক্ষ্য বন/বৃক্ষ আচ্ছাদনের আওতায় এলাকার কত শতাংশ আনা?
উত্তর: **৩৩ %**১৩. আরইডিডি+ কোন বিষয়ের সাথে যুক্ত?
উত্তর: **বননিধন ও বন অবক্ষয় থেকে নির্গমন হ্রাস**১৪. আইএসএফআর ২০২১ অনুযায়ী ভারতের বনে মোট কার্বন স্টক কত?
উত্তর: **৭,২০৪ মিলিয়ন টন**১৫. ভারতের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন কোনটি?
উত্তর: **সুন্দরবন (পশ্চিমবঙ্গ)**১৬. বন অধিকার আইন ২০০৬-এর কোন তফসিলে বনবাসী তফসিলি উপজাতিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে?
উত্তর: **তফসিল I**১৭. ভারতীয় রেলওয়ের "গো গ্রিন" মিশন বছরে কতগুলি চারা রোপণের লক্ষ্য রাখে?
উত্তর: **১ কোটি+**
সংশোধনী চেকলিস্ট (এক লাইনের)
- ভারতের ২৪.৬২ % বন ও বৃক্ষ আচ্ছাদনের আওতায় (২০২১)
- মধ্যপ্রদেশ > অরুণাচল প্রদেশ > ছত্তিশগড় – শীর্ষ ৩ বন এলাকা রাজ্য
- ১৮৭৮ আইন – তিনগুণ আইনি বন শ্রেণিবিভাগ
- ১২টি এমএবি, ১০৬টি এনপি, ৫৬৭টি ডব্লিউএলএস – সুরক্ষিত এলাকা নেটওয়ার্ক
- ক্যাম্পা ২০১৬ – ₹৬০,০০০ কোটি বনায়ন তহবিল
- এফআরএ ২০০৬ – গ্রাম সভাকে ক্ষমতায়িত
- আইএসএফআর – দেরাদুন ভিত্তিক – ১৭তম প্রতিবেদন ২০২১
- রেলওয়ে ও বন – ১ কোটি চারা, সবুজ করিডোর, ৭০,০০০ হেক্টর খালি জমিতে সৌর প্যানেল
ভারতের বনাঞ্চল বিষয়ে রেলওয়ের জিকে বিভাগে পূর্ণ নম্বর পেতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত!